Why we want our voice to be heard?


Tuesday, November 30, 2010

CHT Commission to hear cases by year-end

Press conference on the occasion of 13th Anniversary of the CHT Accord PCJSS demands roadmap to implement the CHT Accord

Press conference on the occasion of 13th Anniversary of the CHT Accord
PCJSS demands roadmap to implement the CHT Accord
Press conference on the occasion of 13th anniversary of the Chittagong Hill Tracts (CHT) Accord was held by the Parbatya Chattagram Jana Samhati Samiti (PCJSS), only political party of indigenous Jumma peoples in CHT and one of the signatories of the Accord, at Sundarban Hotel in Dhaka. President of the PCJSS Mr. Jyotorindra Bodhipriya Larma briefed the journalists about the present state of implementation of the Accord.
Mangal Kumar Chakma, Information and Publicity Secretary and Shaktipada Tripura, Organising Secretary of PCJSS, Elderly politician Pankaj Bhattacharya of Gano Forum, Sanjeeb Drong of Bangladesh Adivasi Parishad, Prof Mesbah Kamal, secretary of Adivasi Adhikar Andolon, Rabindra Nath Soren of Jatiya Adivasi Parishad and Bablu Chakma, President of Hill Students Council (PCP) were also present at the press conference.
Demanding announcement of a roadmap to implement the CHT Accord, Mr. Larma said two years have passed since this government took the office but it is yet to take any fruitful and effective actions to implement the Accord. Due to non-implementation of the Accord, the situation remains the same like before. He said that the process for implementation of the Accord had been stalled for lack of political will on the part of the government. No steps had been taken as yet to protect the character of indigenous-majority of the CHT region; rather conspiracies continued to turn the CHT into a predominantly Muslim area.
He opined that no major authority has been given to the CHT Regional Council (CHTRC); rather it had been ignored deliberately by every office concerned. He also claimed that though the government had in its electoral commitment to fully implement the Accord, but the most important departments and subjects, including general administration, coordination and monitoring of law order, land management, police (local), forest and environment, secondary education etc, were yet to be handed over to the three Hill District Councils (HDCs).
“So far the government is only promising to implement the Accord. But no effective steps have been taken to secure life and properties of the indigenous peoples living in CHT,” he said. “Rather, many indigenous peoples have been evicted from their land and the conspiracy of making the Muslim a majority in the CHT region still goes on,” he added.
“CHT Accord Implementation Committee is not functioning actively due to lack of political sincerity by the government to execute the Accord fully.” Santu Larma complained. He mentioned that the Accord is the only solution to make the CHT stable and peaceful, he said the prime minister received an international award by signing this accord so it is a moral duty of this government to implement the accord effectively. “So, the government should have implementation of the CHT accord in its priority list,” he said.
While evaluating the steps of the government, Mr. Larma said the government has so far recast some committees and appointed indigenous people in some posts like state minister for CHT affairs, Taskforce on Rehabilitation of Repatriated indigenous refugees and IDPs, chairman of CHT Development Board, CHT Land Commission and recasting of CHT Accord Implementation Committee. He also mentioned withdrawal of a brigade and 35 temporary camps from the CHT region as one of the tasks the government has done.
At the press conference, Santu Larma also said the present government has cancelled lease allocations of 593 plots, out of 2,000 on 50 thousand acres of land. “But still the leaseholders are occupying the land. They are now trying to make a fresh lease contract of that land,” he said. He also said around 9,780 indigenous families, out of 12,222 who returned from Tripura of India are yet to get back their land.
He said the clauses of the CHT Land Dispute Resolution Commission Act 2001 which were ‘contradictory’ to the Accord were yet to be amended and the commission chair was triggering controversies by unilaterally announcing a cadastral survey. ‘Although an individual from indigenous community has been made state minister for CHT affairs ministry, activities of the ministry are against the implementation of the CHT Accord and the interests of indigenous peoples.’
‘Instead of implementing the deal, the government is carrying out contrary to its provisions such as its move to form a so-called strategic management forum to undermine the special governance system in CHT, announcement of a cadastral survey before settling the land disputes and unabated acquisition of lands,’ he said.
Santu Larma said the High Court ruling cancelling the 5th amendment to the constitution had cleared the way for constitutional recognition of the indigenous peoples and called for constitutional protection of the CHT Accord, and recognition of political, economic and socio-cultural rights of the ethnic minorities and their traditional land rights in the constitution.
He also asked the government to prioritise with due legal importance the appeal with the Appellate Division of the Supreme Court against the High Court ruling that had declared formation of CHTRC illegal. He referred to prime minister Sheikh Hasina who had said, ‘They had surrendered arms and signed the treaty placing their faith in the government and we cannot betray their trust,’ and lamented that such sincerity still remained rhetoric.
Mr. Larma demanded an end to what he said ‘military rule’ in the CHT region in the name of Operation Uttaran, withdrawal of temporary camps of army, armed police, ansars and VDP from the CHT.
The demands of PCJSS also include making the CHTRC and three HDCs active, banning the united people democratic front (UPDF).
Mr. Larma demanded of the government to ban the activities of the terrorist organisation United Peoples Democratic Front (UPDF). He accused the UPDF activists of involvement in anarchy and terrorism in the CHT region. Replying to a question he said, a vested section of all the governments had fostered the UPDF activists to hinder implementation of the Accord and to destroy Jumma peoples’ movement led by the PCJSS. Mr. Larma also accused the UPDF activists of killing more than 200 people in the CHT, including 65 activists of PCJSS during the past 13 years.
He announced that marking the 13th anniversary of CHT Accord signing on 2 December 2010, the PCJSS will hold daylong discussion at the Institute of Diploma Engineers in Dhaka while local party units would stage processions and rallies in every district and upazila headquarters in CHT.

 ত্রয়োদশ বার্ষিকী পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে আন্দোলনে নামবে জেএসএস 

ত্রয়োদশ বার্ষিকী

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে আন্দোলনে নামবে জেএসএস

অরুণ কর্মকার | তারিখ: ৩০-১১-২০১০

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আন্দোলনে যাচ্ছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। আগামী ২ ডিসেম্বর ওই চুক্তি স্বাক্ষরের ত্রয়োদশ বার্ষিকীর দিনটিতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্দোলনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সমিতির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এ কথা জানিয়েছে।
আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে জেএসএসের সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, আগামী জানুয়ারিতে আন্দোলন শুরু করা হবে। কারণ, পার্বত্য চট্টগ্রামসমস্যার প্রকৃত রাজনৈতিক সমাধান ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
আন্দোলনের প্রকৃতি কী হবে জানতে চাইলে সন্তু লারমা বলেন, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত এর গতি-প্রকৃতি কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কারণ, সরকারের একটি মহলের প্ররোচনায় ইউপিডিএফ পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিবেশ নষ্ট করছে। তিনি ইউপিডিএফকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জেএসএসের আন্দোলনের প্রস্তুতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। এ জন্য বাস্তবায়ন কমিটি ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ, শরণার্থী পুনর্বাসনবিষয়ক টাস্কফোর্স পুনর্গঠনসহ অনেক কাজ শেষ করেছে। এর মাধ্যমে চুক্তি বাস্তবায়নের মৌলিক কাজ শুরুর প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় জেএসএসের উচিত সরকারকে আস্থায় নিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা। তা না হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হতে পারে এবং সে জন্য জেএসএস দায়ী হবে।
এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ত্রয়োদশ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অনতিবিলম্বে সরকারের প্রতি নয়টি করণীয় সম্পাদনের দাবি জানিয়েছেন সন্তু লারমা। এগুলো হচ্ছে: চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অবিলম্বে ঘোষণা করা; পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন কার্যকর করা; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও আঞ্চলিক পরিষদের সুপারিশ অনুসারে ভূমি কমিশন আইন, ২০০১ সংশোধন করা; অচিরেই ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির কাজ শুরু; অপারেশন ‘উত্তরণ’সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা, এপিবিএন, আনসার ও ভিডিপির সব অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার; প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ও জনসংহতি সমিতির সদস্যদের যথাযথ পুনর্বাসন; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও চুক্তির অধীন আইনগুলোর সাংবিধানিক হেফাজতসহ দেশের আদিবাসী জাতিগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভূমি অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও আঞ্চলিক পরিষদের ওপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দায়ের করা আপিল মামলা আইনগতভাবে মোকাবিলার ওপর সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া; ইউপিডিএফ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা এবং এই সংগঠনের চুক্তিবিরোধী সব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং সে জন্য স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা বিধিমালা ও চেয়ারম্যান-সদস্যদের নির্বাচনী বিধিমালা প্রণয়ন করা।
গতকাল সকালে ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রী-আমলা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা বলে চলেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব কথা সাধারণ ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। পার্বত্য জনগণ এখন এ অবস্থার অবসান চায়।
সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য পংকজ ভট্টাচার্য, আদিবাসীবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, আদিবাসী ফোরামের সঞ্জীব দ্রং ও রবীন্দ্রনাথ সরেন, জেএসএসের শক্তিপদ ত্রিপুরা ও মঙ্গল কুমার চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি বাবলু চাকমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

পার্বত্য জেলাগুলোকে বিশেষ শাসন অঞ্চলের স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৯-১১-২০১০

পার্বত্য জেলাগুলোকে বিশেষ শাসন অঞ্চলের স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৯-১১-২০১০
তিনটি পার্বত্য জেলাকে একটি বিশেষ শাসন অঞ্চল হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাস। ওই লক্ষ্যে ককাস সংবিধানে ১১টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানায়। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়।
ককাসের আহ্বায়ক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে করণীয়গুলো সুপারিশমালা হিসেবে উত্থাপন করেন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান সুপারিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের চতুর্থ ভাগের (নির্বাহী বিভাগ) তৃতীয় পরিচ্ছেদের (স্থানীয় শাসন) পর নিম্নোক্ত নতুন অনুচ্ছেদ সংযোজন করা যেতে পারে: ‘৩ (ক) পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসন; ক) রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সমন্বয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি আদিবাসী-অধ্যুষিত অঞ্চল, বিধায় ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকারের স্বকীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য ওই অঞ্চল একটি বিশেষ শাসন অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হবে।’
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, ককাসের সুপারিশমালা সংবিধান সংশোধন কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে।
বর্তমান সংসদের আদিবাসী পাঁচ সাংসদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাজা দেবাশীষ রায়, জনসংহতি সমিতি ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সঙ্গে আলোচনা করে এই সুপারিশমালা তৈরি করেন ককাসের সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও এথিন রাখাইন।
এ ব্যাপারে তিন সদস্যের যে কারিগরি কমিটি ককাসকে সহযোগিতা করছে, তার সমন্বয়ক এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভের (আরডিসি) নির্বাহী পরিচালক মেসবাহ কামাল বলেন, ১৯০০ সালের শাসনবিধিতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ অঞ্চলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের (যা বর্তমানে জেলা পরিষদ হিসেবে কার্যকর আছে) ওপর সরকারি ২২টি বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনে পরিণত করা হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মোট ৩৩টি বিষয় পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ১৯৯৮ সালের আইনে স্বীকৃত হয়েছে। এখন বিষয়গুলোকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হলে অধিকারগুলো স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে।
ককাসের সুপারিশে সংবিধানে শিডিউল আকারে দেশের জাতিগুলোর একটি তালিকা যুক্ত করা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০’ সংসদে গৃহীত হয়েছে, তাতে কেবল ২৭টি নৃগোষ্ঠীর তালিকা সংযুক্ত হয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত নয়, এমন আদিবাসী জাতির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন। শিডিউলে দেশের সব জাতিসত্তার অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সংবিধানে আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান এবং যৌথ মালিকানার বিষয়টি অবশ্যই আসা দরকার বলে ককাসের সুপারিশে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সংবিধানে কেবল একটি (জাতীয়) ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। এর পরিবর্তে ৩৯টি ভাষাকেই পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক, আমিনা আহমেদ, ফজলে হোসেন বাদশা, রওশন জাহান, নবাব আলী আব্বাস খান প্রমুখ। 
courtesy: prothom-alo

JS caucus demands constitutional recognition of ethnic minorities
Places 11-pt constitutional amendment proposal

Staff Correspondent
A Jatiya Sangsad caucus on Sunday came up with an 11-point proposal for instituting constitutional recognition of the country’s ethnic minorities.
   Convener of the JS caucus on indigenous peoples Rashed Khan Menon in a written statement presented their recommendations at a news conference held at the National Press Club.
   State minister for Chittagong Hill Tracts affairs Diponkar Talukder delivered the speech of welcome at the conference moderated by caucus technical committee coordinator professor Mesbah Kamal.
   Menon, also the chairman of the parliamentary standing committee on education ministry, said there were 73 ethnic minorities in the country with their own cultures, traditions, languages, and religions.
   He said the 30-lakh-strong ethnic minority population of the country was yet to get constitutional recognition, even after 39 years of independence.
   Seventeen lawmakers formed the caucus on February 10 and 10 to 12 other lawmakers have been working with them closely, Menon said, adding that at least 30 lawmakers were sensitive to ethnic minority issues.
   Our constitution recognises the religious diversity of this country’s population but not its ethnic, linguistic and cultural diversities, he said and demanded making appropriate amendments to the constitution to remove this shortcoming.
   In paragraph 3 on state language, the constitution says, ‘Bangla is the state language of the republic’. To that sentence, Menon said, it could be added that ‘but the state will also equally patronise promotion and development of the languages of other ethnic groups.’
He proposed that ‘national language’ should be replaced with ‘national and other languages of the state’ in the 23rd paragraph of the second part of the constitution.

   He also observed that the constitution should reflect the fact that Bangladesh was actually a pluralist society, despite the huge majority of Bangalee population while the ethnic diversity ensured ‘our unity in diversity’.
   He proposed incorporation and acknowledgement of traditional social structures of the ethnic minority groups in the CHT and plain lands of the country as local government bodies.
   In its statement, the caucus strongly suggested acknowledgement of traditional ‘community ownership of land’ recognised in the CHT administrative manual of 1900. They also recommended for inclusion of a provision for reserved seats for ethnic minorities in local government bodies in the ethnic minority-populated areas in paragraph 59 of the constitution.                                                   
Menon said the recommendations prepared with the support of Research and Development Collective and International Labor Organization would be tabled at the parliament for making necessary amendments to the constitution.

   Chairman of the parliamentary standing committee on land ministry AKM Mozammel Haque and lawmakers Amina Ahmed, Fazle Hossain Badsha, and Nabab Ali Abbas Khan were also present at the conference.

Sunday, November 28, 2010

আদিবাসী জীবনে জীবন মেলাবার আয়োজন কবে হবে সঞ্জীব দ্রং | তারিখ: ০৪-১১-২০১০

জীবনে জীবন মেলাবার আয়োজন কবে হবে

সঞ্জীব দ্রং | তারিখ: ০৪-১১-২০১০

প্রখ্যাত লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী তাঁর চোট্টি মুন্ডা ও তার তীর উপন্যাসে ব্রিটিশ আমলের এক মুন্ডা হেডম্যান পহানকে দিয়ে বলিয়েছিলেন, ‘তুই যদি ভালো গোরমেন, তবে আমাদের এত কষ্ট কেন?’ এখানে ‘গোরমেন’ মানে গভর্নমেন্ট। মুন্ডা আদিবাসীরা জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝেছিল, ইংরেজ মানেই ব্রিটিশ ও শাসক এবং তারা খারাপ। সে সময় বিহার রাজ্যের ছোট লাটসাহেব রনাল্ডসনের ভাই মুন্ডাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ইংরেজ লোকটি মুন্ডা আদিবাসী গ্রাম ঘুরতে ঘুরতে আদিবাসী নারী-পুরুষের সঙ্গে ফটো তুলছিলেন এবং আদিবাসীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছিলেন, গ্রাম্য মেয়েদের সঙ্গে হাসি-তামাশায় মেতে উঠেছিলেন। এই দেখে অবাক হয়ে ওই মুন্ডা হেডম্যান পহান তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুই যদি ভালো গোরমেন, তবে আমাদের এত কষ্ট কেন?’
আজ এতকাল পর ভাবি, ব্রিটিশ চলে গেল, পাকিস্তানিরা এখন নেই, এখন স্বাধীন বাংলাদেশ, যার জন্য অনেক আদিবাসী মুক্তিযুদ্ধ করেছে, জীবন দিয়েছে, তবু আদিবাসীজীবনে এত কষ্ট কেন? আজ গারো পাহাড়ের কোলে গারোরা সংখ্যালঘুতে পরিণত। হাজং, ডালু, বানাই ও কোচরা দলে দলে দেশান্তরি হয়ে গেল, সাঁওতাল-ওঁরাও-মুন্ডারা ভূমিহীন ও নিঃস্বসম্প্রদায়, নিজভূমিতে অনেকে দিনমজুর, খাসিয়াদের ভূমি নিয়ে সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি, মধুপুর বনে মান্দিদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে ইকো পার্ক বাতিলের পরও। শত শত বনসংক্রান্ত মামলার কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। চলেশ, পিরেন, গিদিতা রেমা বা আলফ্রেড সরেন হত্যার কোনো বিচার হয়নি। কতবার আদিবাসীদের গ্রাম আক্রান্ত হয়েছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে; কোনো বিচার হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি মানুষ আবার হতাশাগ্রস্ত। পার্বত্য চুক্তির মূল চেতনাই হারিয়ে যেতে বসেছে। ধীরে ধীরে নয়, দ্রুত পাহাড়ের মানুষ নিজভূমে সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে। ভূমি ও বন বেদখলে চলে যাচ্ছে। নতুন নতুন পর্যটনশিল্প গ্রাস করছে পাহাড়ের ঐতিহ্যগত ভূমি। সব মিলিয়ে আবারও ওই কথাই প্রতিফলিত হচ্ছে, যা মহাশ্বেতা দেবী তাঁর বিখ্যাত বিরসা মুন্ডা উপন্যাসে লিখেছিলেন।

একাত্তরে আমি নিজে শরণার্থী বালক ছিলাম। মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মেঘালয়ের একটি গ্রামে সেই উদ্বাস্তুজীবন। প্রথমে দিমাপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে কয়েক দিন ছিলাম। পরে ক্যাম্পের অবস্থা খারাপ দেখে আমরা চলে যাই খন্ডকপাড়া নামক একটি গ্রামে। সেখানে বাবা একটি ঘর কেনেন। যারা জীবনে শরণার্থী হয়নি, তাদের পক্ষে সে জীবন সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব নয়। আমাদের সংরা গ্রামের এক আত্মীয় শরণার্থীজীবনে পরিবারের ১৩ সদস্য নিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। ফিরে এসেছেন চার সদস্য নিয়ে। নয়জন উদ্বাস্তুজীবনে নানা রোগে, অসুখে মারা যান। আমাদের অনেক আত্মীয় তরুণ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। আমার মামাদের মধ্যেই, যাঁরা ‘দ্রং’ সম্প্রদায়ের, ২০ জনের অধিক হবে, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, জীবনও দিয়েছেন। তবু মুক্তিযুদ্ধ শেষে ফিরে এসেছি আমরা স্বাধীন দেশে। আবার দেশের অবস্থা, পরিস্থিতি এবং আদিবাসীদের অপমান দেখে অনেকে মেঘালয়ে ফিরে গেছেন। এমনকি যে আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র হাতে মাতৃভূমিকে মুক্ত করার জন্য জীবনপণ লড়াই করেছেন, স্বাধীনতার পর তাঁদেরও অনেকে দেশান্তরি হয়েছেন। এটি শুধু গারোদের ক্ষেত্রে নয়, অন্য আদিবাসীদের বেলায়ও ঘটেছে। আনিসুল হক তাঁর চিয়ারী বা বুদু উরাও কেন দেশত্যাগ করেছিল উপন্যাসে একজন ওঁরাও আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি তুলে ধরেছেন। তাই বলা যায়, দিনের শেষে যে হিসাবটা দাঁড়ায়, তা হলো আদিবাসীরা স্বাধীনতার সুফল তেমন লাভ করতে পারেনি; অন্তত সামগ্রিকভাবে। আদিবাসীদের মধ্যে কিছু মানুষ হয়তো ভালো অবস্থানে গেছে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে, কিন্তু সামগ্রিক বিচারে আদিবাসীরা আরও অসহায় জাতিতে পরিণত হয়েছে। তারা জায়গা-জমি-বন ও পাহাড়ের অধিকার হারিয়েছে। দলে দলে গ্রামছাড়া ও দেশছাড়া হয়েছে। রাষ্ট্রে, প্রশাসনের মধ্যে, বৃহত্তর সমাজে আদিবাসী মানুষ, তাদের জীবন ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সমর্থন কি বেড়েছে? আমার তা মনে হয় না।

আমরা বহুদিন ধরে আদিবাসীদের অধিকারের কথা বলছি। প্রথমে বলতে চাই, আদিবাসীরা এ পৃথিবীকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই যে পাহাড়, বন, প্রকৃতি, সমুদ্র, নদী, ভূমি—সবকিছুকে আদিবাসী পূর্বপুরুষেরা আজকের মানুষের জন্য যত্ন করে গড়ে তুলেছেন। এখন জাতিসংঘ নিজে স্বীকার করছে, পরিবেশ রক্ষায় আদিবাসীদের রয়েছে বিশাল অবদান। আধুনিক সভ্যতা বা উন্নয়নের ধারা আদিবাসীদের রেখে যাওয়া সব সম্পদকে দ্রুত ভোগের জন্য শেষ করে দিচ্ছে। আগামী প্রজন্ম হয়তো পৃথিবীতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে, যা এখন আমরা হচ্ছি। পৃথিবীর অস্তিত্বের জন্যই মানবসমাজের এই ভিন্নতাকে স্বীকার করে নিতে হবে, অন্তত তত দিন পর্যন্ত, যত দিন না পৃথিবীতে মানুষে মানুষে বৈষম্য দূর হয়। ‘বাংলাদেশের সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান’ কথাগুলো শুনতে সুন্দর। কিন্তু বছরের পর বছর কথাগুলো সংবিধানের শুধু শোভা হয়েই থাকে, সাধারণ গরিব খেটে খাওয়া মানুষ, সংখ্যালঘু ও আদিবাসীসম্প্রদায় বা সমাজের দুর্বল শ্রেণীর মানুষের জীবনে এ কথাগুলোর বাস্তব প্রতিফলন নেই। এ জন্যই মানুষ ভিন্নভাবে, পৃথকভাবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সংখ্যালঘু বা আদিবাসীদের কথা বাদ দিলেও বলতে পারি, দেশের সাধারণ গরিব ও মেহনতি মানুষের জীবনেও সংবিধানের ওই সুন্দর কথাগুলোর প্রতিফলন নেই। সংবিধানের ২৭ ও ২৮ ধারায় আছে—
ধারা ২৭। সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
ধারা ২৮(১)। কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না।
ধারা ২৮(৪)। নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।
কিন্তু বাস্তবে সংবিধানের এ কথাগুলোর প্রতিফলন আদিবাসীজীবনে দেখতে পাই না। তাই আমরা অনেক দিন ধরে স্পষ্টভাবে আদিবাসীদের পরিচয় ও অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা বলে আসছি। কী দুঃখের কথা, স্বাধীনতার প্রায় ৪০ বছরেও আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি মেলেনি। এবার অবশ্য আমরা আশা করছি, সরকার আদিবাসীদের এই দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে।

বিশ্বব্যাপী আদিবাসীজীবনে শোষণ ও বঞ্চনা নিয়ত। দেশে দেশে ঐতিহাসিক এই শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে আদিবাসীরা চিরকাল লড়াই করেছে। যাদের মাতৃভাষায় ‘শোষণ’ শব্দের প্রতিশব্দই নেই; কী আশ্চর্য, তাদের জীবনচক্র শোষণের শৃঙ্খলে বাঁধা। যেখানে, যে বনে ও ভূমিতে আদিবাসী মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে বংশপরম্পরায় বসবাস করে এসেছে, আধুনিক রাষ্ট্র হওয়ার পর এক নিমেষে আদিবাসীরা হয়ে গেল নিজবাসভূমে অবৈধ ও পরবাসী। সরকার আদিবাসীদের কোনো মতামত না নিয়েই কাগজে-কলমে, আইন বানিয়ে, নোটিশ দিয়ে বলে দিল, এসব বন ও ভূমি সরকারের। যারা এতকাল নিজের জীবনধারণপ্রণালি দিয়ে এসব বন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করেছিল আজকের মানুষের জন্য, আগামী দিনের শিশুদের জন্য, সেসব বন উজাড় হতে শুরু করল। কেননা আদিবাসীরা বনকে দেখত জীবনের অংশ হিসেবে, লাভ বা মুনাফার দৃষ্টিতে নয়। আজ আদিবাসী মানুষেরা অসহায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছে ২০০৭ সালে, যেখানে আদিবাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। ঘোষণাপত্রের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। এই অধিকারের বলে তারা স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও মর্যাদা নির্ণয় করে এবং স্বাধীনভাবে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সাধন করে।’ এ ছাড়া আদিবাসীদের ভূমির অধিকার, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার, ভাষা ও সংস্কৃতি এবং আদিবাসীদের জ্ঞানের ওপর অধিকারের বিষয় ঘোষণাপত্রে যুক্ত আছে। বাংলাদেশে আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের ভাবনাচিন্তাও সরকারি পর্যায়ে নেই।
জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের ৭০টি দেশের আদিবাসী মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, পরিচয়, ভাষা, অস্তিত্ব বিপন্ন। ২০০০ সালে জাতিসংঘ আদিবাসীবিষয়ক স্থায়ী ফোরাম গঠন করেছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের অধীনে। এ ফোরামের ১৬ জন সদস্যের মধ্যে আদিবাসী প্রতিনিধি আছেন কমপক্ষে আটজন। তাঁরা আদিবাসীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার—এ ছয়টি বিষয়ের ওপর কাজ করছেন। একটি তথ্য দিই, পৃথিবীতে যে ৩৭ কোটি আদিবাসী মানুষ আছে, তারাই পৃথিবীর পাঁচ হাজার মাতৃভাষার অধিকারী। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় ছয় হাজার ভাষার মধ্যে পাঁচ হাজারই আদিবাসীদের ভাষা। এসব ভাষার জ্ঞানভান্ডার পৃথিবীর অমূল্য সম্পদ।

আদিবাসীদের বঞ্চনা ও কষ্টের জন্য সব বাঙালি তো দায়ী নয়। কতিপয় শাসকগোষ্ঠী দায়ী। নগণ্যসংখ্যক। বাঙালিদের মধ্যে আমার অনেক বন্ধু আছে। গারো পাহাড়ের কোলে ছেলেবেলায় দরিদ্র বাঙালি মুসলমানের বাড়িতে দাওয়াত (ওরা বলত জেফত) খেতে গেছি। মনে পড়ে, ওরা ঘরের চৌকিতে বিছানায় কাঁথা বিছিয়ে ভাত খেতে দিত আমাদের। ওদের ঘরে চেয়ার-টেবিল বা বসার ঘর বা আলাদা খাবার ঘর ছিল না। যেখানে গরিব বাঙালি কৃষক স্বামী-স্ত্রী ঘুমান, সে বিছানায়ই কাঁথা বিছিয়ে আমরা ছেলেবেলায় গ্রামে ঈদের দিন দুপুরবেলা ‘জেফত’ খেতাম। কত আনন্দ মনে তখন। ওই বাড়িগুলো আমি এখনো দেখি। আমাদের বাড়ির কাছে, ওরা কত গরিব। বুকে খুব কষ্ট অনুভব করি। কিন্তু আমরা কোনো দিন কেউ কাউকে শোষণ করেছি বলে তো জানি না। কয়েক দিন আগে বাড়ি গেলাম। হালুয়াঘাটে সংরা বাজারের পাশে গাড়ি রেখে বাড়ির দিকে আমি হাঁটব। ছেলেবেলায় যাঁদের দেখেছি, তাঁদের কয়েকজন বাঙালি বৃদ্ধ হয়ে গেছেন চেহারায়, আমাকে বললেন, ‘বাপু, তোমাকে কত দিন দেখি না। তোমার বাবা ছিল বলে আমরা বেঁচে ছিলাম। কত সহযোগিতা করেছেন।’ একবার ইকো পার্কের আন্দোলনের সময় মধুপুরে বৃদ্ধ বাঙালি মৌলভি সাহেব আকুলভাবে জনসভায় জলছত্র স্কুলের মাঠে বলেছিলেন, ‘এই বন বিভাগ আমাদের জীবন শেষ করে দিয়েছে।’ গারোদের জনসভায় এসেছিলেন তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় আদি বাঙালিদের আমি দেখেছি, কথা বলেছি, যারা পার্বত্য চট্টগ্রামের এই করুণ দশার জন্য মন খারাপ করেন।...এই-ই তো ছিল আমাদের চিরকালের বাংলাদেশ। শাসকের দল একে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? দীর্ঘ সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হয়েছিল সরকার ও আদিবাসীদের মধ্যে, যা শান্তিচুক্তি নামে পরিচিতি পেয়েছে। চুক্তির এক যুগ পার হয়ে গেল, পাহাড়ি মানুষের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি তো দূরে থাকুক, আশাহত হচ্ছে মানুষ। চুক্তির মূল বিষয়গুলোই বাস্তবায়িত হয়নি; পাহাড়ে আদিবাসী মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বল্প পরিসরেও বাস্তবায়িত হয়নি। আঞ্চলিক পরিষদ এক প্রকার ক্ষমতাহীন, জেলা পরিষদগুলো দলীয়ভাবে চলে। ভূমিসমস্যার সমাধান কবে হবে কেউ বলতে পারে না। এই মেয়াদে চুক্তির পক্ষের সরকারের প্রায় দুই বছর হয়ে গেল, সরকার ও চুক্তি স্বাক্ষরকারী পাহাড়ি নেতাদের মধ্যে ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক সংলাপ’ শুরুই হয়নি। পার্বত্য চুক্তি নিয়ে কয়েকটি কমিটি হয়েছে এবং কমিটির কয়েকটি বৈঠক হয়েছে; কিন্তু যে পরিমাণ অগ্রগতি হওয়ার কথা, তা হয়নি। পাহাড়ি মানুষের অভিযোগ, যে ধরনের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, সে রকম অগ্রাধিকার পায়নি গত দুই বছরে।

আদিবাসীজীবনে বিগত ৪০ বছরে কিছুই হয়নি—এ কথা বলা যাবে না। একটি স্বাধীন, মুক্ত দেশের নাগরিক হয়েছে তারা। কিন্তু নাগরিক অধিকার? নাগরিক হিসেবে মানবাধিকার, মর্যাদা ও সম্মান? পরিচয়, সংস্কৃতি, ভূমির অধিকার? সব মিলিয়ে আশানুরূপ নয়। কবি শামসুর রাহমানের ‘কথা ছিল’ কবিতার লাইনগুলো যেমন—‘কথা ছিল, আমার আনন্দ-গানে ভরিয়ে তুলবো অলিগলি, জনপথ, অবাধ প্রান্তর/ আমার ভরাট গলা ছোঁবে দিগন্তকে/ কথা ছিল, পায়রা উড়িয়ে দেবো ভোরবেলা মেঘের কিনারে/ কথা ছিল উৎসবের কবিতা নিরুদ্বেগ লিখে মুছে ফেলবো সকল দুঃখ শোক/...কথা ছিল প্রত্যেককে দেখাবো অনিন্দ্য সূর্যোদয় মুক্ত মনে/...অথচ এখন, এ মুহূর্তে সূর্যাস্তের ছোপলাগা কবরের দিকে অসহায় চেয়ে থাকি/...বন্দীদশা এল বুঝি পুনরায়।’ এই কবিকে নিয়ে আমি রাঙামাটি, নেত্রকোনা, গারো পাহাড়ে আমার গ্রামে ঘুরেছি। কবির একটি মানবিক হূদয় ছিল আদিবাসীদের জন্য।
এত বঞ্চনার পরও যে কথা বলা দরকার, তা হলো ইদানীং আদিবাসীদের নিয়ে সভা, সেমিনার, আলোচনা অনুষ্ঠান ইত্যাদি হচ্ছে। মিডিয়ার ভূমিকাও আদিবাসী ইস্যুতে বেড়েছে বলা যায়। নাগরিক সমাজের মধ্যে অল্পবিস্তর হলেও একধরনের সচেতনতা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে আদিবাসীদের বিষয়ে। দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী তাঁদের শাসনকালে আদিবাসী দিবসে বাণী দিয়েছেন। ইউএনডিপিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য একটি ফ্লোর হয়েছে, সেখানে দেয়ালে দেয়ালে পাহাড়ি জীবনের ফটো বাঁধানো আছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার ১০০ পাহাড়িকে বিশেষ বৃত্তি দিয়ে নিয়ে গেছে। এনজিওগুলো পাহাড়ে কাজ করছে, আদিবাসী অধিকার আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রসমাজ এগিয়ে আসছে আদিবাসী বিষয়ে, টিভিতে লাইভ টক শো হচ্ছে, আদিবাসী সংসদীয় ককাশ হয়েছে, পত্রিকাগুলো গোলটেবিল বৈঠক করছে। শিক্ষানীতি ও শিশুনীতিতে আদিবাসীদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নতুন একটি আইন হয়েছে আদিবাসীদের মতামত না নিয়েই ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন’ আদিবাসীদের অস্বীকৃতি জানিয়ে। সবকিছু ছাপিয়ে যা হয়নি গত ৪০ বছরে, তা হলো আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, যেখানে তাদের আত্মপরিচয়, অধিকার ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বাঙালি ও আদিবাসীদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গিগত সমস্যা ও আস্থাহীনতাও বড় চ্যালেঞ্জ।
পাহাড়ি মানুষের নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় সংসদে একটি শোষণহীন সুন্দর সমাজ গড়ার কথা বলেছিলেন, যেখানে কোনো জাতিগত নিপীড়ন থাকবে না। এমন একটি সমাজের কথা তিনি বলেছিলেন, যেখানে পাহাড়ি মানুষেরাও মানুষের অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারবে। ৪০ বছর পার হয়ে গেল।
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ‘পাহাড়ি জনপদে জীবনের অন্বেষা’ প্রবন্ধে লিখেছেন—
কথা ছিল বাংলাদেশের ভাগে যে আকাশটুকু পড়েছে, তার অধিকার সব মানুষের সমান থাকবে। থাকেনি।
কথা ছিল দেশের প্রধান জাতিসত্তার মানুষের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকবে। থাকেনি।
কথা ছিল পাহাড়ি বনভূমি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষের আবাস হয়ে ভূমির অধিকার নিশ্চিত থাকবে। থাকেনি।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও এই যে এত বঞ্চনার ভেতর দিয়ে জীবন যাপন করতে হচ্ছে আদিবাসীদের, এর দায় ও লজ্জা কি নেব না আমরা? কবে শুরু হবে আদিবাসীজীবনের সঙ্গে জীবন মেলাবার আয়োজন?
 সঞ্জীব দ্রং: সাধারণ সম্পাদক, আদিবাসী ফোরাম


courtesy: prothom-alo

Saturday, November 27, 2010

রাঙামাটিতে চাকমা সার্কেল হেরিটেজ কাউন্সিল গঠন

রাঙামাটিতে চাকমা সার্কেল হেরিটেজ কাউন্সিল গঠন রাঙামাটি প্রতিনিধি
চাকমা সার্কেলের ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রত্নতত্ত্ব, দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষণে 'চাকমা সার্কেল হেরিটেজ কাউন্সিল' গঠন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে লক্ষ্য অর্জনের সময় পর্যন্ত সংগঠনটি তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ ছাড়া সংগঠনটির পক্ষ থেকে তহবিল সংগ্রহ ও খরচের যাবতীয় দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। এ ব্যাপারে চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের সম্মতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নবগঠিত ওই সংগঠনের আহ্বায়ক গৌতম দেওয়ান। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক আগুনে রাজপরিবারের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন পুড়ে যাওয়ায় আমরা খুবই হতাশ ও ব্যাথিত। ভালো উদ্যোগের অভাবে এসব সংরক্ষণে কোনো প্রচেষ্টা ছিল না। চাকমা হেরিটেজ কাউন্সিলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গৌতম দেওয়ানকে আহ্বায়ক, প্রফেসর মংসানু চৌধুরী, অঞ্জুলিকা খীসা ও চিংকিউ রোয়াজাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১৯ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
চাকমা হেরিটেজ কাউন্সিলের আহ্বায়ক গৌতম দেওয়ান বলেন, চাকমা রাজবাড়ী পুড়ে যাওয়ায় আমাদের আর্থিক ক্ষতি তেমন না হলেও ঐতিহাসিক ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক।
তারপরও অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন ও দলিল-দস্তাবেজ আমাদের রয়ে গেছে। সেগুলো রক্ষা করতে চাকমা সার্কেল হেরিটেজ কাউন্সিল গঠন করেছি।

source: the daily kaler kantho 

Call to empower indigenous women to end discrimination

Call to empower indigenous women to end discrimination

Some eminent personalities yesterday stressed the need for initiatives of both government and non-government organisations to empower indigenous women for betterment of their life standard and end discrimination against them.
Indigenous women fall victim to different sorts discriminations and deprivations severely. The government and non-government organisations should work together for their capacity building to end discriminations and improve their life standard, they said.
The remarks were made at a seminar styled “Indigenous women: Issues and challenges” organised by the Indigenous People Development Services (IPDS) at the at the Catholic Bishop's Conference of Bangladesh in the city.
Speaking as the chief guest, HE Dr Stefan Frowein, ambassador and head of the Delegation of the European Commission to Bangladesh, said indigenous women are victims of double discrimination, first for being women and then for coming from ethnic minorities.
The government, civil society, development partners and indigenous and non-indigenous communities should work together to forge effective policies and programmes to eliminate discrimination against women and empower them, he said.
He laid emphasis on necessary financial and political support and dialogue at the policy-making level to address the problems of indigenous communities.
Frowein said the European Union has been the major contributor in addressing the vulnerability of indigenous communities in the country by providing € 16 million funding for the Chittagong Hill Tracts (CHT) Development Fund and € 6.6 million for education programmes in CHT.
Criticising the country's political leaders, National Human Rights Commission Chairman Dr Mizanur Rahman said, “No one raises voice when hundreds of indigenous people are evicted from their land and hundreds of tress from the country's forests are cut down.
“But several hartals are called for political purpose when any political leader vacates their residence.”
While featuring different forms of discrimination against indigenous people, he said they never get proper justice despite repeated violation of their basic human rights as they are poor and come from minority communities as discriminatory system is prevailing in the country.
Mizanur added that his commission would place recommendations to authorities concerned to include provision in the constitution recognising indigenous communities.
Presenting the keynote paper, Information Commissioner Dr Sadeka Halim placed some recommendations for empowering indigenous women.
These include reservation of seats for the indigenous women in parliament, introduction of reserved seats in local government bodies and ensuring participation of indigenous women in local and national development.
IPDS President Sanjeeb Drong said according to the United Nations Permanent Forum on Indigenous Issues, indigenous women are victims of a 5-layer discrimination, firstly for being a woman, secondly for being indigenous, thirdly for being indigenous women, fourthly for being poor and marginalised and finally for being migrated women.
There are around 15 lakh indigenous women in the country, he informed.
Hill Women Federation former president Choitali Tripura, Joyenshahi Adivasi Parisad Chairman Ajoy A Mree and A'chik Michik Association President Sulekha Mrong, among others, were present at the function.


courtesy: the daily star

Jumma girl allegedly murdered in Matiranga

Jumma girl allegedly murdered in Matiranga

A MUTILATED body of a fourteen-year old Jumma girl has been recovered
from a jungle in Matiranga under Khagrachari district. She is believed
to have been murdered after rape.

Different sources said Ms Koshmoti Tripura went missing on 15 November
while working in a paddy field near their house in the village of
Brajendra Karbari Para under Matiranga Upazila.

Her mutilated body was recovered one week later from a jungle. The
locals believe she might have been killed after rape.

On Monday, the police arrested Shafiqul Islam (26) on suspicion of
being involved in the murder, sheershanews.com and the daily
Kalerkantho said.

A case has been filed with Matiranga police station in this connection.

The police yesterday sent her body to Khagrachari Sadar Hospital for autopsy.

The Hill Women’s Federation, a front organisation of the UPDF, has
expressed concern and urged the local administration to probe her
alleged murder.

source: chtnews.com

আদিবাসী চিম্বুক পাহাড়ে মানবেতর ম্রো জীবন

আদিবাসীচিম্বুক পাহাড়ে মানবেতর ম্রো জীবন বিপ্লব রহমান, চিম্বুক (বান্দরবান) থেকে ফিরে
বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্ছেদের ফলে সুয়ালক, টংকাবতী ও কালেঙ্গা এলাকার শত শত ম্রো আদিবাসী পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে গেছে। ভূমিহীন ও জুম চাষি (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ ধরনের চাষাবাদ) এসব আদিবাসী নিজ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে চিম্বুক সড়কের দুপাশে অস্থায়ী ঘর তুলে কোনোরকমে জীবনযাপন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তাদের পুনর্বাসন করা হয়নি।
তবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) কালের কণ্ঠকে জানিয়েছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার লামা-সুয়ালক ও বান্দরবান-কেরানীহাটের সড়কের সংযোগস্থলে হলুদিয়া নামক স্থানে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবির বা ফায়ারিং রেঞ্জ রয়েছে। ১৯৯১-৯২ সালে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার একর জমির ওপর ফায়ারিং রেঞ্জটি স্থাপিত হয়। এ জন্য সমঝোতার ভিত্তিতে বাঙালি ও ম্রো আদিবাসীদের কাছ থেকে যে প্রায় তিন হাজার একর জমি কেনা হয়, তার বেশির ভাগের মালিকই বাঙালি। ফায়ারিং রেঞ্জের জন্য অধিগ্রহণ করা ও কেনা ভূমিতে বসবাসকারীদের অধিকাংশকেই পুনর্বাসিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে চিম্বুক পাহাড় এলাকার উচ্ছেদ হওয়া ম্রো আদিবাসীদের মানবেতর জীবনের খণ্ডচিত্র দেখা গেছে। তাঁরা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, নব্বই দশকে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা অধিগ্রহণের পর মাঝে মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী দুর্গম পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। সর্বশেষ ২০০৭ সালে সুয়ালক, টংকাবতী ও কালেঙ্গা এলাকায় ৫৭০টি ম্রো আদিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদ
করা হয়। ফলে শত শত আদিবাসী পরিবার ভিটেমাটি ও চাষবাসের জমি হারিয়ে হতদরিদ্রে পরিণত হয়েছে। অধিগ্রহণের ফলে সংকুচিত হয়েছে তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন জুমচাষ। এরপরও উচ্ছেদকৃতরা জুমচাষ করেই কোনো রকমে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। আবার কোনো কোনো আদিবাসী পেশা বদলে পরিণত হয়েছেন দিনমজুরে। নিরাপত্তা বাহিনীর আপত্তির কারণে তাঁদের কয়েক শ বছরের ঐতিহ্য শিকার করাও এখন বন্ধ। অনিশ্চিত জীবনে চিম্বুক পাহাড়ের প্রধান সড়কের দুপাশে ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাস করছেন অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ম্রো আদিবাসীরা। তাঁদের অস্থায়ী পাড়াগুলোতে বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই নেই। উপরন্তু সব সময়ই তাঁদের আশঙ্কা, নতুন করে উচ্ছেদ হওয়ার।
সুয়ালকের বাসিন্দা রেং রাং ম্রো (৪৫) ভাঙা বাংলায় কালের কণ্ঠের কাছে আক্ষেপ করে বলেন, 'বছর তিনেক আগে ডিসেম্বরের কঠিন শীতের মধ্যে আমাদের ৫৭০টি পরিবারকে দুদিনের নোটিশে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা অসহায় অবস্থায় জঙ্গলের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। জমি অধিগ্রহণের ফলে আমাদের জুম চাষও বন্ধ হতে চলেছে।'
তিনি আহাজারি করে বলেন, 'আমাদের পরনে ভালো কাপড় নেই, ঘরে চাল নেই, ছেলেমেয়েরা কেউ স্কুল যায় না। কেউ অসুস্থ হলে স্থানীয় বৈদ্যের ঝাড়-ফুঁকই ভরসা। কোনো রকমে খেয়ে-না খেয়ে আমাদের দিন চলছে।'
টংকাবতী পাহাড়ের ব্রিকফিল পাড়ার বাসিন্দা সিংলক ম্রো (৩০) বলেন, 'সরকার অনেক আগেই আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এখন উচ্ছেদের ফলে জুমচাষও বন্ধ হতে চলেছে। এ অবস্থায় আমরা যাব কোথায়? খাব কী?'
পাবলা হেডম্যান পাড়ার মেন রেই ম্রো (৪০) বলেন, 'আমরা বিভিন্ন সময় জেলা প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করেছি। বান্দরবান সদরে এ নিয়ে মিছিল-সমাবেশও হয়েছে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি কেউ-ই আমাদের জন্য কিছু করেনি। উপরন্তু তিন বছর আগে ইঁদুরের ঝাঁক (স্থানীয়ভাবে 'ইঁদুর বন্যা' নামে পরিচিত) জুমের ফসল খেয়ে ফেলার পর অনেক পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে।'
টংকাবতীর পাউসি ম্রো (৫০) বলেন, 'আমাদের পাড়ার ৪৭টি পরিবারকে দুদিনের নোটিশে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি পরিবার কোনো রকমে এখনো জুমচাষ করছে। বাকিরা মাটিকাটা, জঙ্গল পরিষ্কার ইত্যাদি দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছে।'
ম্রো সোস্যাল কাউন্সিলের সভাপতি রাংলাই ম্রো কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বংশ পরম্পরায় শত শত বছর ধরে আমরা বাস করলেও এখনো বন ও পাহাড়ের ওপর আমাদের অধিকার জন্মেনি। এটি খুবই দুঃখের বিষয়। বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্ছেদের পর এখনো আমাদের পুনর্বাসন করা হয়নি। উপরন্তু আবারও উচ্ছেদ হওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন। উচ্ছেদকৃতদের মৌলিক মানবিক চাহিদার কোনোটিই কোনো নিশ্চয়তাও নেই।'
এদিকে গত ২ নভেম্বর বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের পাবলা হেডম্যান পাড়ায় উচ্ছেদকৃত ম্রো আদিবাসীরা এক সমাবেশের আয়োজন করে। এতে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা অভিযোগ করে বলেন, নব্বইয়ের দশকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে সাড়ে ১১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে ছয় হাজার ম্রো আদিবাসী এবং স্থায়ী বাঙালি বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হয়। ওই সব আদিবাসী ও বাঙালি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমা বলেন, উচ্ছেদ হতে হতে আদিবাসীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার।
আইএসপিআরের বক্তব্য
এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) লিখিত বক্তব্যে জানায়, বান্দরবান মিলিটারি প্রশিক্ষণ এলাকাটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য ফায়ারিং রেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। প্রশিক্ষণ এলাকাটি চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলাধীন লামা-সুয়ালক ও বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের সংযোগস্থলের হলুদিয়া নামক স্থানে অবস্থিত, যা মূলত একটি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা। প্রশিক্ষণ এলাকাটি ১৯৯১-৯২ সালে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয়ের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়।
আইএসপিআরের বক্তব্যে বলা হয়, ফায়ারিং রেঞ্জ এলাকাটি মোট ১১ হাজার ৪৬৭ দশমিক ৪৮ একর জমির ওপর স্থাপিত হয়। এর মধ্যে সরকারি খাস জমির পরিমাণ ছিল আট হাজার ৬৩৫ দশমিক ২১ একর এবং ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৮৩২ দশমিক ২৭ একর। প্রশিক্ষণ এলাকাটি স্থাপনের প্রাক্কালে ক্রয়কৃত জমির অধিকাংশেরই মালিক ছিল স্থানীয় বাঙালিরা এবং নূ্যনতম পরিমাণ জমির মালিক ছিল ম্রো সম্প্রদায়ের জনগণ। ১৯৯০ সালে স্থানীয় বাঙালি ও ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে সেনা কর্র্তৃপক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে তৎকালীন ভূমিমূল্য অনুসারে সামরিক ভূমি কর্মকর্তা (এমইও), ইস্টার্ন সার্কেল, চট্টগ্রামের মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রদানের বিনিময়ে ব্যক্তিগত জমিগুলো কেনা হয়। ফায়ারিং রেঞ্জ স্থাপনের পর থেকে ওই এলাকার ভূমি মালিকানা-সংক্রান্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম নেয়নি কিংবা স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে কোনো রকম ক্ষোভ কিংবা অসন্তোষ পরিলক্ষিত হয়নি। বরং সে সময় স্থানীয় বাঙালি ও পাহাড়ি উভয় সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি বিক্রি করেছিল। রেঞ্জের জন্য অধিগ্রহণ ও ক্রয়কৃত ভূমিতে বসবাসকারী জনগণের অধিকাংশকেই সুয়ালক, ভাগ্যকুল, আমতলী, গয়ালমালা, হলুদিয়া এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় পুনর্বাসনে সহায়তা করা হয়। তাঁরা পুনর্বাসিত এলাকায় অদ্যাবধি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। অধিকন্তু ওই এলাকায় ফায়ারিং রেঞ্জটি স্থাপিত হওয়ার কারণে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মচাঞ্চল্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এতে আরো বলা হয়, এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে সেনাবাহিনী কর্তৃক সাড়ে ১১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে ছয় হাজার ম্রো সম্প্রদায় ও স্থায়ী বাঙালি বাসিন্দাদের উচ্ছেদের অভিযোগটি অসত্য, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আইএসপিআরের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এখানে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ বান্দরবান-সুয়ালক এলাকার ম্রো সম্প্রদায়ের নেতা রাংলাই ম্রোকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য একটি এসবিবিএল রাইফেল, একটি পিস্তল, ২৩টি একে-৪৭ রাইফেল এবং ১২টি এসবিবিএলের অ্যামুনিশনসহ যৌথ বাহিনী গ্রেপ্তার করে। আটক ব্যক্তি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মানসে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ম্রো সম্প্রদায়ের জনগণের জমি দখলের অপপ্রচার চালাচ্ছে। বস্তুতপক্ষে জানা যায়, ম্রো সম্প্রদায়ের জনগণ অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির এবং সেনাবাহিনীকে কখনোই তাঁরা তাঁদের স্বার্থের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেনি।
এতে বলা হয়, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর পার্বত্যাঞ্চলে ধীরে ধীরে শান্তির পথ প্রশস্ত হচ্ছে এবং বহুবিধ উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এহেন অপপ্রচার বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়। এ অপপ্রচার একদিকে যেমন বর্তমান সরকার এবং সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করবে, তেমনি পার্বত্যাঞ্চলের কাষ্টার্জিত শান্তি উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
  -------------------------  courtesy: the daily kaler kantho 

পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই ইলিরা দেওয়ান | তারিখ: ২০-১১-২০১০

পার্বত্য চট্টগ্রাম
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই

ইলিরা দেওয়ান | তারিখ: ২০-১১-২০১০

‘সরকারের প্রতি আস্থা রেখে যাঁরা অস্ত্র সমর্পণ ও চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, আমরা তাঁদের বিশ্বাস ভঙ্গ করতে পারি না’—প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর পাহাড়িরা আবার কিছুটা আশার আলো দেখছে (প্রথম আলো, ২২ অক্টোবর ২০১০)। তিনি সম্প্রতি এ কথা বলেন যখন জাতীয় সংসদের উপনেতা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি পরে জরিপ করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। মহাজোটের নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীবিষয়ক অধিকার সংরক্ষণের অঙ্গীকার থাকায় ক্ষমতায় আরোহণের পর স্বাভাবিকভাবে চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের একটা সম্ভাবনার ঝিলিক দেখা গিয়েছিল। সে লক্ষ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক কয়েকটি পদ ও কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এসব কমিটির কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন তার কার্যক্রম জোরেশোরে শুরু করলেও শুরু থেকেই বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করেছে বলে অনেকে মনে করে।
আগে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি পরে জরিপ—প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার আগে গত ২৫ অক্টোবর রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ভূমিসংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় ভূমিমন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, সার্কেল-প্রধানেরাসহ পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর চেয়ারম্যানরা ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সভার আলোচনায় সরকারপক্ষ ও পাহাড়ি নেতারা উভয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেরিতে বোধোদয় হলেও এ আয়োজনের জন্য সরকারপক্ষকে সাধুবাদ জানাতে হয়। কেননা ভূমিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য ভূমি কমিশন এযাবৎ ডজন খানেক সভা সম্পন্ন করলেও নিষ্ফল সভাগুলো কেবল জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিল। এতে জনগণের মাঝে যেমন ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল, তেমনই চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপারেও জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলছিল। কিন্তু পরপর দুটি আন্তরিক আলোচনা পাহাড়ের গুমোট পরিস্থিতিকে অনেকখানি সহজ করে দিয়েছে। সরকার, প্রশাসন এবং চুক্তি বাস্তবায়নে নিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তরিক হলে চুক্তি বাস্তবায়নের পথটি অনেকাংশে মসৃণ হবে। আগে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধক হিসেবে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দোষারোপ করা হতো। কিন্তু এখন সেখানে বিদ্যমান সব দলই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি তুলছে। কাজেই বর্তমানে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতাই চুক্তি বাস্তবায়নে প্রধান নিয়ামক।
২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ (প্রথম আলো, ৩০ এপ্রিল ২০০৯)। এ ঘোষণার দেড় বছর পর প্রধানমন্ত্রী আবারও চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের ১৩ বছর পরও যখন চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য পাহাড়ি জনগণকে দাবি জানাতে হয়, আন্দোলন করতে হয়, তখন মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, প্রধানমন্ত্রীর বারবার ঘোষণায় পাহাড়িদের মনে আর কতটা আস্থা অটুট আছে! কিন্তু তবুও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর পাহাড়িরা নতুনভাবে আশ্বস্ত হচ্ছেন এবং সম্ভাবনার আলো দেখতে পাচ্ছেন। এটাকে চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বলে পাহাড়ীরা মনে করে। পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষজনের একটাই প্রত্যাশা—আর অঙ্গীকার বাণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চুক্তির অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।
তবে সরকারের কর্মপরিকল্পনার অগ্রাধিকার তালিকায় চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটিও একটি বিবেচ্য বিষয়। এ ছাড়া প্রায় ১৩ বছর আগে করা চুক্তিটি বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় সাধন করা যায় সে বিষয়গুলোও সামনে নিয়ে আসতে হবে।
বর্তমানে সরকার বলছে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে ছোটখাটো যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো দূর করা হবে। এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের আইন প্রণয়ন ও সংশোধনে আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ দেওয়ার এখতিয়ারের কথাও বলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আঞ্চলিক পরিষদ কর্তৃক প্রস্তাবিত ভূমি কমিশন আইনের ২৩টি সংশোধনী প্রস্তাবের আলোকে ভূমি কমিশন আইনে সংশোধনী আনা হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এসব ইতিবাচক পদক্ষেপ যদি আরও আগে নেওয়া হতো তাহলে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হলেও আজ পর্যন্ত এ পরিষদের কার্যপ্রণালি বিধি গঠন করা হয়নি। ফলে আঞ্চলিক পরিষদ যথাযথভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। কার্যপ্রণালিবিধি না থাকায় পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আঞ্চলিক পরিষদের কাজের সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় দায়বদ্ধতাও অনুপস্থিত। অসম্পূর্ণ বিধিবিধানের জন্য সব ক্ষেত্রে চুক্তি লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব দুর্বলতা অতিসত্বর দূর করে স্থানীয় শাসনব্যবস্থায় গতিশীলতা ও দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে।
পাঁচ বছর অন্তর পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও প্রায় ২০ বছর ধরে এগুলো অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যে সরকার ক্ষমতায় আসে সে সরকারের দলীয় লোকদের দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠিত হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় প্রভাবমুক্ত হতে পারছে না। পরিষদগুলো মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি নেই। অন্যদিকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাও এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে না। অথচ জেলা পরিষদ গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা ও সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা।
বর্তমানে চুক্তি বাস্তবায়ন অতি জরুরি এ কারণে যে, বিশ্বায়নের যুগে সমাজ, রাজনীতি ও পরিবেশ পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ফলে চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চুক্তি বাস্তবায়ন করতে গেলে চুক্তিটির মৌলিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে কি না, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে!
তা ছাড়া চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার না দিয়ে যদি পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে কেবল সমন্বিত গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত, স্ট্রাটেজিক ম্যানেজমেন্ট ফোরাম গঠন কিংবা পার্বত্য জেলাগুলোর সীমানা পুনর্বিন্যাস, আঞ্চলিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড অথবা মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণের নীতি গ্রহন করে পাহাড়ে প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলে। তাই সরকারের এ ধরণের কর্মপরিকল্পনা পাহাড়ের মানুষজনকে আবারও উৎকণ্ঠিত করে তুলেছে। পাহাড়ে যেন আর নতুন করে অবিশ্বাসের বিষবাষ্প ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
পরিশেষে বলতে চাই, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে আর কালক্ষেপণ না করে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি করে দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়ন করা হোক।
ইলিরা দেওয়ান: মানবাধিকারকর্মী।

Prothom Alo Feature



courtesy: prothom-alo

A Tripura girl allegedly murdered in CHT

A Tripura girl allegedly murdered in CHT
On 15 November 2010 a Tripura girl named Ms Koshmoti Tripura (14) s/o Shanto Kumar Tripura of village Brajendra Karbari Para of Doliya mouza under Matiranga upazila of Khagrachari district was killed after rape. Her mutilated body has been recovered from a jungle in Matiranga under Khagrachari district on 22 November 2010.
It is learnt that Ms Koshmoti Tripura went missing on 15 November while working in a paddy field near their house in the village of Brajendra Karbari Para. Her mutilated body was recovered one week later from a jungle.
Police arrested Md. Bablu, Md. Shafique and Md. Jafar of village Palashpur of Matiranga Upazila and Chhuto Ali of village Adorsho Gram of Matiranga Upazila in Khagrachari district on suspicion of being involved in the murder. A case has been filed with Matiranga police station in this connection. The police sent her body to Khagrachari Sadar Hospital for autopsy on 23 November 2010.
On 25 November 2010 at 10 am CHT Women Resource Newtwork and TSF organised a human chain in front of Khagrachari press club protesting said gang rape and killing.

A Tripura shopkeeper wounded by a Bengali settler in CHT
On 23 November 2010 a Tripura shopkeeper named Bishwachan Tripura (42) s/o Hug Kumar Tripura of village Sindukchari under Sindukchari union Mahalchari Upazila in Khagrachari district was attacked by a Bengali settler named Khairul Islam s/o Ajgor Ali of Sindukchari.
It is learnt that at a stage when being altercation regarding business transaction at the shop of Mr. Tripura at Sindukchari Bazaar, Khairul Islam suddenly hit Bishwachan Tripura on his head firstly with stick and then with a cup and Mr. Tripura became senseless. He was taken with senseless at army hospital (army camp) near the Sindukchari bazar. The people who were present at the time of incident brought Khairul Islam to the Camp Commander but Camp Commander did not take any step against him. At a stage, the culprit could escape. Relatives of Biswchan Tripura went to police station to file case but police did not accept to receive the case.
It is mentionable that Khairul Islam was a defendant of murder case of Ponemala Tripura of Sindukchari village.  Bengali settlers have been trying to uproot Bishwachan Tripura from this market. Relatives believe that the attack was made as part of uprooting him from his business.


Kapaeeng Foundation
(An Human Rights Organization for Indigenous Peoples of Bangladesh)
Shalma Garden, House # 23/25, Road # 4, Block # B, PC Culture Housing, Mohammadpur, Dhaka-1207, Telephone: +880-2-8190801
E-mail: kapaeeng.foundation@gmail.com, kapaeeng.watch@gmail.com

Saturday, November 13, 2010

Protest against land acquisition for Ruma Cantonment and BDR Wing HQ in Ruma of CHT

Protest against land acquisition for Ruma Cantonment and BDR Wing HQ in Ruma of CHT 

On 8 November 2010 indigenous Jumma peoples in Ruma upazila under Bandarban Hill District organised demonstration and held meeting at Ruma Upazilla HQ protesting against acquisition of lands of the Jumma people recorded in their names as well as occupied by them so far for expansion of Ruma Cantonment of the Bangladesh Army and establishment of new wing headquarter of BDR (Bangladesh Rifles) in Ruma. The protest was organised by the local Jumma people under the banner of the People from All Levels in Ruma.

It is noted that the Army authority during the pre-CHT Accord period put a plan to acquire 9,560 acres of land for expansion of Ruma cantonment. Since mid 1980s the local Army authority time and again made attempts to have acquisition of the proposed area. Every time the local Jumma People particularly the Murung (Mro), who numbering to about 15,000 (Fifteen thousand) are to be uprooted even from their whole mouza (local traditional area unit) and would become completely landless and deprived from their livelihood, the occupation of plough land cultivation and shifting agriculture cultivation.

During the state of emergency in 2007-2008, when the Army administration emerged as the most powerful force in the country and the CHT was brought under double military Rule i.e. the Operation Uttoran renamed after the CHT Accord and the State of emergency of 2007-08 there was an attempt by the army to evict the local Jumma people including Mro community from proposed area. In order to executing the programme of the acquisition of the said land area many local Jumma persons were tortured and arrested among whom, the Mro leader named Ranglai Mro was notable. Very recently the local army authority led by Lt. Col. Wasim, Commander of the Ruma Cantonment took up the process once again.
It is noted that Lt. Colonel Wasim, the then Army Zone Commander of Bagaichari Army Zone under 24 Infantry Division of Bangladesh Army was the main perpetrator of the communal attack upon the Jumma People at Baghaihat area in Sajek Union under Bagaichari Upazilla in Rangamati Hill District in February 2009 where two Jumma villagers were shot death and around 450 houses of 12 (twelve) Jumma villages were completely burnt to ashes. The UNDP-CHTDF (United Nations Development Programme- CHT Development Facility) has been all the time prepared to provide rehabilitation to the affected Jumma families. But the army authorities imposed embargo that unless primarily 100 (one hundred) Bengali settlers families, which were collected from different Cluster Villages since 2007 (Bengalee Settlers Settlements) from neighbouring Dighinala Upazilla in Khagrachari Hill District and Longadu Upazilla in Rangamati Hill District and presently 500 (five) hundred settlers' families were not rehabilitated there they would not allow the UNDP-CHTDF to work for the rehabilitation. UNDP-CHTDF formally put proposal to the GoB through Ministry of CHT Affairs (MoCHTA) for the purpose but it is yet to yield any positive response.

On the other hand, the GoB authority took plan to acquire another 25 acres of land at Thana Para under Poli mouza in Ruma Upazila for the purpose of establishment of BDR headquarters in Ruma. Though BDR officially showed 25 acres of land for acquisition, however, it will be more than 25 acres as BDR marked the boundary of the proposed area up to bank of Shanghu river and Barshi Para and Upper & Lower Rumachar Para other than Thana Para will be affected. If the proposed BDR Wing headquarters is set up, then it will uproot 40 families of Thana Para, 15 families of Barshi Para and 50 families of Rumachar Para (Upper and Lower) from their ancestral land who belong to Marma community. Even a hostel for local indigenous students and a carpentry & sewing training centre run by a local NGO named Toymu will also be uprooted from Thana Para area.

On the day of 8 November 2010 the meeting was chaired by Mr. Numlai Mro, Headman of Pantola mouza and the meeting was addressed by Mr. Mongcha Ching Marma, member of Galenga union Parishad (a local government council), Mr. Cham-a-u Marma, Headman of Chanda Mouza, Mr. Kyochya Prue Marma, Karbari of Rumachar Para, Mr. Ruihla Mro, ex-member of Galenga union parishd, Thoiching Marma, Karbari (Village head), Mr. Ukya Ching, President of PCP (Pahari Chhatra Parishad, a student wing of PCJSS) of Ruma Branch and Vice president of PCJSS of Ruma branch Mr. Jial Bawm while general secretary of PCJSS Mr. Lue Prue conducted the programme. The procession was brought out in Ruma bazaar area at ruma Upazilla HQ in Bandarban Hill District.
The protesters submitted a memorandum to Prime Minister of GoB through the Upazila Nirbahi Office (UNO) demanding for cancel of the plan to acquire lands for the expansion of the Ruma Cantonment and setting up the new BDR Wing HQ there and to stop uprooting them from their ancestral territory as well as depriving them from their occupations and livelihoods.
It is noted that although the PM Hasina and her GoB frequently continue reiterating fullest implementation of the CHT Accord but there has been hardly any progress in it. But, the process of forcible land grabbing and expansion of settlements of the Bengalee settlers as well as fresh infiltration, which has been the main process to wage the war against the indigenous Jumma people of CHT continue unabated.
It is further noted that though until the date there have been more than 400 hundreds army camps and cantonments, BDR and Ansar camps yet there are attempts from various corners of the GoB to set up new camps of army and BDR on the pretext of combating terrorist activities and drug trafficking in CHT. But, the reality is to occupy lands to make rooms for the expansion of settlements of Bengalee settlers in CHT.

Remarks: Article 17(Ka) and 17(Kha) of CHT Accord respectively narrate that all the temporary camps except the BDR camps and 6 (six) permanent army installations would be closed down and the vacate lands would be restituted to the owners (obviously the Jumma peersons) and the concerned Hill District Council. So the move for expansion of the Ruma Cantonment and setting up the new BDR wing HQ in Ruma is violation of the said provision of the CHT Accord of 1997. Considering the extremely deplorable condition of the Jumma people of the Ruma Upazilla in Bandarban Hill district of CHT it appealed to raise the issue with the PM and the Army Authority in particular and send urgent action letter as well.

-- ---


(Parbatya Chattagram Jana Samhati Samiti)
Kalyanpur, Rangamati-450000, Chittagong Hill Tracts, Bangladesh
Tel+Fax: +880-351-61248
E-mail: pcjss.org@gmail.com, pcjss@hotmail.com
Website: pcjss-cht.org

Friday, November 12, 2010

শ্রদ্ধাঞ্জলি শহীদ এম এন লারমার সংগ্রাম


শহীদ এম এন লারমার সংগ্রাম

সোহরাব হাসান | তারিখ: ১১-১১-২০১০

গতকাল ৯ নভেম্বর ছিল বিপ্লবী নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ (এম এন) লারমার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর রাজনীতি ও আন্দোলনের মূল কথা ছিল আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের গণপরিষদে যে সংবিধান পাস হয়, তাতে বাঙালি ছাড়া অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ছিল না।
সংবিধানের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়:
‘বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে, বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাঙালি বলিয়া পরিচিত হইবেন।’
এর প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছিলেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একমাত্র প্রতিনিধি এম এন লারমা। এর আগে খসড়া সংবিধানের ওপর গণপরিষদে যে বিতর্ক হয় তাতে অংশ নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘সংবিধান হচ্ছে এমন একটা ব্যবস্থা যা অনগ্রসর জাতিকে পিছিয়ে পড়া ও নির্যাতিত নীতিতে অগ্রসর জাতির সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে নিয়ে আসার পথ নির্দেশ করবে। কিন্তু বস্তুতপক্ষে এই পেশকৃত সংবিধানে সেই রাস্তার সন্ধান পাচ্ছি না।’
পরিতাপের বিষয়, যে বাঙালি জনগোষ্ঠী বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, অত্যাচার-নির্যাতন ভোগ করেছে; সেই বাঙালি নেতৃত্ব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জাতিগত অধিকার অস্বীকার করে।
১৯৭৩ সালে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে এম এন লারমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দেখা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। বাঙালি নেতা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিকার স্বীকার করেননি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে সবাইকে ‘বাঙালি’ হয়ে যেতে বলেছিলেন।
এম এন লারমা ছিলেন এমন এক নেতা, যিনি শুধু তাঁর জাতিগোষ্ঠীর জন্য সংগ্রাম করেননি, লড়াই করেছেন বাংলাদেশের সব জাতির নিপীড়িত মানুষের জন্য।
এম এন লারমার রাজনীতিতে হাতেখড়ি গেল শতকের পঞ্চাশের দশকে, যখন তিনি স্কুলের ছাত্র। ১৯৫৭ সালে তিনি গড়ে তোলেন পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন এবং ১৯৫৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। এম এন লারমা বরাবর ছিলেন গণমানুষের মুক্তির পক্ষে। সমাজতন্ত্র তথা শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর লক্ষ্য। ১৯৭০ সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্তুঙ্গ জোয়ারেও তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এ থেকে ব্যক্তি ও নেতা এম এন লারমার জনপ্রিয়তা অনুমান করা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের অপর জনপ্রতিনিধি রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে হাত মেলালেও এম এন লারমা থেকে যান তাঁর জনগোষ্ঠীর একজন হয়ে, দেশ ও জনগণের মুক্তির জন্য।
১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এম এন লারমার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, যার পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয় পাহাড়ের ১১টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী। স্বাধীন বাংলাদেশে পাহাড়িদের পরাধীনতার কাল শুরু হয়।
এরপর এম এন লারমার নেতৃত্বে পাহাড়ি জনগণের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে সাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য চার দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
এই দাবি মেনে নেওয়ার মতো ঔচিত্যবোধ বাঙালি নেতাদের তখনো ছিল না, সম্ভবত এখনো নেই।
পঁচাত্তরের পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান হাজার হাজার বাঙালিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে সেখানকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করেন। বহু বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরা আছে, পাহাড়িদের সঙ্গে মিলেমিশেই তারা বসবাস করছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান যাদের ‘হিজরত’ করালেন, তাদের একাংশ লুটপাট, জবরদখল শুরু করে।
পঁচাত্তরের ১৬ আগস্ট এম এন লারমা আত্মগোপনে চলে যান, জনসংহতি সমিতি প্রস্তুতি নিতে থাকে সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলার। গড়ে তোলেন শান্তিবাহিনী— জনসংহতির সামরিক শাখা।
পরের ইতিহাস সবার জানা। কর্ণফুলীর স্রোতে মিশে গেছে অসংখ্য পাহাড়ি ও বাঙালির রক্ত। রাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্তে রক্তাক্ত হয়েছে পাহাড়ের সবুজ ভূমি, চিরকাল পাশাপাশি বাস করা পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যকার সম্প্রীতির বন্ধন টুটে গেছে। বেড়েছে হিংসা ও হানাহানি। সেনাবাহিনী শান্তিবাহিনীকে মেরেছে। শান্তিবাহিনী পাল্টা আঘাত হেনেছে। এ কাহিনি প্রায় দুই দশকের। কত প্রাণ ঝরে গেছে, কত শিশু বাবাকে হারিয়েছে, কত স্ত্রী বিধবা হয়েছেন, কত নারী-পুরুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন, কত ঘরবাড়ি লুট হয়েছে তার হিসাব নেই। কোনো জাতিগোষ্ঠীর ক্ষতি শুধু সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে থাকে অপূরণীয় বেদনা, অপরিসীম কষ্ট ও হাহাকার।
অন্যান্য আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টিতে যেমন অন্তর্দলীয় বিরোধ দেখা দেয়, জনসংহতি সমিতিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। একদিকে এম এন রায় গ্রুপ, অন্যদিকে প্রীতি গ্রুপ। বিদেশি বন্ধুরা নাকি এ বিরোধকে আরও উসকে দিয়েছিল। হায় রাজনীতি! হায় ক্ষুদ্র স্বার্থ! শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাতে জীবন দিতে হয় এম এন রায়কে, ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর। এ-ও এক শহীদী মৃত্যু।
কিন্তু তাঁর সংগ্রাম ও সাধনা বৃথা যায়নি। যে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়াই করেছিলেন, তাদের কিছুটা হলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলেছে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার পাহাড়িদের দাবি স্বীকার করে নিয়ে সই করে পার্বত্য চুক্তি, যাতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু সাংবিধানিক স্বীকৃতি এখনো মেলেনি।
পৃথিবীর অনেক দেশের সংবিধানে আদিবাসীদের পরিচয়, অস্তিত্ব, সংস্কৃতি ও অধিকারের স্বীকৃতি আছে। যেমন আমেরিকা, কানাডা, বলিভিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা প্রভৃতি দেশে আদিবাসীরা সাংবিধানিক স্বীকৃতি শুধু নয়, আদিবাসী ভূমি অধিকার স্বীকৃতি পেয়েছে। কোনো কোনো দেশে উচ্চতর আদালতের রায় ও নির্দেশনা আছে আদিবাসী অধিকার রক্ষার জন্য। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আদিবাসীদের আইনগত অধিকার এবং চুক্তি রয়েছে রাষ্ট্র ও আদিবাসীদের মধ্যে।
সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে বাধা কোথায়?
আমরা আশা করব, সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি সংবিধান পুনর্মুদ্রণের আগেই আদিবাসীদের স্বীকৃতির বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে তারা সংসদে সংবিধান সংশোধন করার প্রস্তাব উত্থাপন করবে।
মনে রাখতে হবে, দেশটি কেবল বাঙালির নয়, জাতি-ধর্ম-বর্ণর্ নির্বিশেষে সবার।

Wednesday, November 10, 2010

Demo against garrison expansion in Ruma

Demo against garrison expansion in Ruma

THE people of Ruma have staged a demonstration to register their
protest against a proposal for land acquisition for expansion of Ruma
garrison in Bandarban.

The proposed plan, originally developed in 1977, seeks to acquire
9,560 acres of land, and if implemented, it will displace thousands of
Jumma people, especially members of ethnic Mro nationality.

However, no governments in the past approved of the project,
considering the potential damage that it might cause to the
environment as well as to ethnic societies.

During the state of emergency between 2007 and 2008, there was another
unsuccessful attempt on the part of the army to restart the process of
acquiring the land.

The process was been revived recently after Lt. Col. Wasim was
transferred to Ruma garrison from Baghaihat, where he oversaw the
persecution of ethnic minorities.

In the rally, held today at Upazila Auditorium under the banner of
People from All Walks of Life in Ruma, the inhabitants once again
voiced their opposition to the proposed plan for expansion of Ruma

Presided over by Numlai Mro, headman of Pantola Mouza, the rally was
also addressed by Mongcha Ching Marma, member of Galenga UP (Ward No.
8), Cham-a-u Marma, headman of Chanda Mouza and Kyoching Prue Marma,
Karbari or village head of Rumachar Para, Sengu Mouza.

The rally, which was preceded by a procession in Ruma bazaar, was
conducted by Loprue Marma and Proshaprue Marma.

The speakers urged the government to discard the plan altogether and
warned that they would launch tougher programmes including sit-in in
front of the office of the Deputy Commissioner of Bandarban, if the
process of acquiring their lands is not stopped immediately.

They also lodged their protest at the government plan to acquire
another 25 acres of land for the purpose of constructing a Bangladesh
Rifles headquarters in Ruma.

source: chtnews.com

Photographs of damaged cottages of Triratna Bana Sadhana Kuthir,

Photographs of damaged cottages of Triratna
Bana Sadhana Kuthir, a Buddhist temple and meditation centre situated
near Barkal-Jurachari border in Rangamati district. The temple’s
meditation cottages were destroyed by Bangladesh military personnel
during a raid on 26 October 2010.

And here is the report on the incident: http://chtnewsupdate.blogspot.com/2010/10/army-attacks-buddhist-temple-in.html

Physically challenged Jumma girl raped in Manikchari

A PHYSICALLY challenged Jumma girl was gang raped by four settler
youths in Manikchari under Khagrachari district, the victim,
Muichinung Marma, 13, and her family members alleged.

The police arrested two settler youths in this connection and sent
them to jail. The incident occurred on 3 November in the village of
Godatuli under Borbil Union of Manichari Upazila.

The Suprabhat Bangladesh, a Bengali daily published from Chittagong,
quoting police, said, four delinquent youths picked her up from her
family home around 10pm, took her to Ramiz Tila (hill top), raped her
by turn and then left her unconscious.

When her relatives were looking for her in the morning, her younger
sister told them that Kashem, a settler youth, entered their room the
previous night.

Then her parents brought the matter to the notice of local Union
Council member, Abdul Mannan, who immediately ran to Kashem’s house to
inquire about it.

After repeated interrogation, Kashem admitted to his involvement in
the incident and told the names of the other rapists and the location
where they had left the girl.

The locals then rescued the victim and detained Abul Kashem (26) and
Delwar Hossain (22) until the police arrived.

The victim, Muichinung Marma, filed a rape case with Manikchari police
station under Women and Children Repression Act, accusing four settler

The other two accused – Mohammad Belal (25) son of Abul Boshor and Md.
Raju – have not been arrested yet, her father Mr Alu Aung Marma said.

The Hill Women’s Federation president Ms Sonali Chakma condemned the
rape of Muichinung Marma and expressed her deep concern over the rise
of incidence of sexual violence against Jumma women in the Chittagong
Hill Tracts over the last few months.

She urged the government to take effective steps, including severe
punishment for the culprits, to reverse the trend.

source: chtnews.com

Another sexual assault in Kobakhali- reported by chtnews.com

Another sexual assault in Kobakhali

FOUR Jumma women were allegedly subjected to sexual assault by settler
youths in Kobakhali village under Dighinala Upazila.

The incident occurred around 3pm on 5 November when the Jumma women
were on their way back home from a nearby jungle. They went there to
gather wild fruits and vegetables.

As soon as they reached Roshya Moni Karbari Para area the settlers
suddenly appeared and grabbed the women.

When they screamed for help, members of the paramilitary Ansar from a
nearby camp rushed there and detained Md. Shohag (27) son of Abdul
Kashem of Ambagan village and Md. Nazim Uddin (22) son of Abdul Malek
of village Ali Nagar.

Later, they were handed over to Dighinala police station.

The Jumma women who were subjected to the sexual assault are Ripana
Chakma (22) wife of Kingkor Chakma, Tusha Rani Chakma (25) wife of
Milon Joti Chakma, Rita Chakma (24) wife of Kamal Joti Chakma and
Parani Chakma (23) wife of Jangalya Chakma.

They are from the village of Kobakhali Headman Para.

source: chtnews.com

Saturday, November 6, 2010

CHRTC demands annulling of Rangamati Science and Technology University


The Chittagong Hill Tracts Regional Council (CHTRC) has demanded cancellation of Rangamati Science and Technology University (RSTU) project on the ground that it would leave hundreds of indigenous families homeless, deprived of their livelihood.

Demanding immediate cancellation of the RSTU project, the CHTRC submitted a memorandum to Prime Minister Sheikh Hasina on October 19.

The CHTRC said in the memorandum that hundreds of indigenous families would be uprooted once again from their ancestral lands, where they had settled down after displacement following construction of Kaptai Dam in the 1960s.

An influential member of the CHRTC, preferring anonymity told The Independent that local indigenous people have been opposing setting up of the university in their area, arguing that it would evict them once again from their homestead, creating socio-political problems in the region.

In 2001,the then government passed the Rangamati Science and Technology University Act, 2001 and immediately formulated a project to set up the university at Rangamati.

The government selected a site to set up the university at Jhagrabil Mouza under Rangamati sadar Upazila, south of the Rangamati town and to the north-west of the Kaptai naval base, a training centre of the Bangladesh Navy, north of Kaptai upazila headquarters.

Indigenous inhabitants of Jhagrabil mouza petitioned the then prime minister Begum Khaleda Zia for cancellation of the project and the project was cancelled in 2004.

After coming to power the grand alliance government again took initiative to set up the RSTU at the same place. The Deputy Commissioner of Rangamati was asked to proceed with the acquisition of lands proposed for RSTU.

Education Minister Nurul Islam Nahid and state minister for Chittagong Hill Tracts Affairs Dipankar Talukdar visited the sites of the proposed RUST and held a views exchange meeting on the situation of education in the CHT on March 10. But there was no representative from the CHTRC and local indigenous leader attending the meeting, a senior member of the CHTRC said.

Earlier, the local inhabitants petitioned the Prime Minister Sheikh Hasina on December 01, 2009 and September 21, 2010 as well as on May 11, 2009 to the education minister Nurul Islam Nahid, appealing for cancellation of the process of acquiring of their lands for the proposed project of the University.
The CHRTC source opined that the RUST was not necessary at all at this moment. He suggested that instead of it the facilities in three Government University Colleges in the three Hill District headquarters should be upgraded with honours courses on different subjects with provisions for necessary support facilities. Besides, arrangements should also be made for housing for the teachers and students.


courtesy: the independent (06.11.2010)

Friday, November 5, 2010

Hill people still victim of land grabbing: Larma

The Daily Star, 01 November 2010
Hill people still victim of land grabbing: Larma
Our Correspondent, Rangamati

Chief of Parbatya Chattagram Jana Sanghati Samity (PCJSS) Jyotirindra Bodhipriya Larma yesterday said Bangla speaking people from the plain land are still grabbing the lands of jummo (indigenous) people in Chittagong Hill Tracts (CHT) under the shelter of a vested interest group.
Security personnel are maintaining dominance over the hilly areas in the name of peacekeeping while the people of CHT region are passing their days amidst insecurity, the PCJSS leader, who is popularly known as Santu Larma, said at 'freshers' reception' on the campus of Rangamati Government College.
He was addressing as chief guest at the event organised by the college unit of Pahari Chhatra Parishad (PCP), a student front of PCJSS, in the morning.
Referring to the government's decision to set up a university of science and technology and a medical college in Rangamati, Larma, also chairman of CHT Regional Council, said new problems will be created in CHT if those institutions are set up without considering whether CHT people want them.
"Many indigenous people were evicted due to the creation of Kaptai Dam. They lost their arable land and homesteads. The jummo people do not want to lose their lands any more," said the former guerrilla leader.
"During the 39 years of independence, we have failed to establish a progressive and democratic government in the country. And so, crime and corruption has grabbed the country and human right is being violated everywhere," he lamented.
Blaming the government for politicising all the three hill district councils in CHT, he said nowadays the poor people have hardly any scope to get help or assistance as the ruling party men are enjoying all the facilities from the organisations.
Suggesting the students to acquire knowledge from the outside environment alongside academic education to become worthy citizen, Larma called upon them to come forward for full implementation of the CHT deal.
Chaired by Dhiresh Chakma, a student and president of PCP Rangamati College unit, the function was also addressed, among others, by civil society leader Prakriti Ranjan Chakma, former PCP central president Udoyan Tripura, its central committee general secretary Sunirmol Dewan and district secretary Nitol Chakma.
Later, a band show programme was held at the college campus.


courtesy: the daily star.