Why we want our voice to be heard?

Pages

Saturday, April 30, 2011

জালিয়া পাড়ায় সেটলার কর্তৃক হামলার শিকার মিপ্রু মারমা এখনো সুস্থ হয়ে উঠেনি


জালিয়া পাড়ায় সেটলার কর্তৃক হামলার শিকার মিপ্রু মারমা এখনো সুস্থ হয়ে উঠেনি

 লেখক তালুক চাকমা

গত ১৭ এপ্রিল ২০১১ রামগড়-মানিকছড়িতে পাহাড়িদের উপর সেটলার হামলার সময় জালিয়া পাড়ায় সেটলারদের হামলার শিকার মিপ্রু মারমা এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেনি৷ তার মাথার ক্ষতটি এখনো শুকায়নি। ক্ষত শুকানোর জন্য নিয়মিত ড্রেসিং করিয়ে দিতে হচ্ছে। খাগড়াছড়িতে এক শিক্ষকের বাড়িতে তাকে প্রয়োজনী চিকিত্‍সা সেবা দেয়া হচ্ছে।

মানিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাড়পত্রে তার নাম লেখা রয়েছে মিতু মারমা। তবে তার আসল নাম হচ্ছে মিপ্রু মারমা (১৩), পিতা মৃত. মেলাপ্রু মারমা, মাতা আম্রা মারমা। পিতা মেলাপ্রু মারমা ৩ বছর আগে রোগে ভুগে মারা যান। তাদের গ্রাম ছিলো মানিকছড়ির মাহ্গ্রা নামক এক গ্রামে। পিতা মারা গেলে তার মা তার ভাইদের বাড়ি গুইমারার বড়তলী এলাকায় এসে বসবাস করছেন৷ মিপ্রুরা চার ভাই বোন৷ সে সবার বড়। বাড়িতে কষ্টে সংসার চলে৷ তাই মিপ্রুর মা মিপ্রুকে খাগড়াছড়ির এক স্কুল শিকের ঘরে রেখেছেন৷ বৈসাবি উত্‍সব শুরু হলে মিপ্রু মারমা নিজ গ্রাম গুইমারায় চলে যায় ১৩ এপ্রিল৷ এরপর সে মানিকছড়ি মহামুনি মেলায় তার এক বান্ধবীকে নিয়ে বেড়াতে যায়৷ সে বাড়িতে নেই জেনে তার মামা প্রুশি মারমা ও মামী রিএমা মারমা তাদের ৬ মাসের সন্তান ঞিওমা মারমাকে নিয়ে তার খোঁজে মানিকছড়িতে যায় এবং তাকে খুঁজে পাবার পর গাড়িতে করে বাড়িতে আসার সময় রামগড়ের জালিয়াপাড়ায় তারা সেটলারদের হামলার শিকার হয়।

সেটলাররা তাদের উপর হামলা চালালে তারা দিগ্বিদিক শুন্য হয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মিপ্রু মারমা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রুশি মারমা নিজের প্রাণ বাঁচাতে এমনভাবে দৌড় দেন যে তিনি এখনো তার পায়ের ব্যথার কারণে হাটতে পারেন না৷ রিএমা মারমা পালানোর সময় এক বাঙালি গৃহবধু তাকে ঘরে আশ্রয় দেন৷ পরে বুদ্ধি করে তাকে বোরখা পরিয়ে তিনি রিএমা মারমাকে পাহাড়ি গ্রামে পর্যন্ত পৌছানোর ব্যবস্থা করেন।

মিপ্রু মারমাকে ঘটনা বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে কিছু্ই মনে করতে পারছেনা বলে জানায়। তাকে তার রক্তাক্ত হবার ছবি দেখালে সে নিজেকে শনাক্ত করতে পারে। তার মামা প্রুশি মারমা জানান সেটলারদের হামলার সময় মিপ্রুর হাতে বিনি চালের একটি থলে ছিলো।

মিপ্রু মারমার বর্তমান তত্ত্ববধানকারী শিক্ষক জানান যে, মিপ্রুর বিষয়ে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কর্মী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাকে জানান। তার কাছ থেকে তিন জানতে পারেন যে মিপ্রু মানিকছড়ি হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি তাকে জানায় যে, 'মিপ্রুকে এক বাঙালি রাস্তায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ফোনে ঐ বাঙালির সাথে যোগাযোগ করে সে একটি গাড়ি ভাড়া করে লুকিয়ে ঘুর পথে মেয়েটিকে তার হাতে গছিয়ে দেয়। এরপর উক্ত ব্যক্তি অন্যের সহায়তায় মিপ্রু মারমাকে ১৭ এপ্রিল রাতে মানিকছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। হাসপাতালে মিপ্রু মারমা ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত অজ্ঞান ছিলো ৷ উক্ত ব্যক্তি মারফতে মিপ্রুর মামা সম্পর্কীয় এক আত্মীয় তার খোঁজ নিতে গেলে দোতলায় ওঠার সময় সেটলাররা তার উপর আক্রমণ করে। তার গায়ে দুএক ঘা পড়ার পর তিনি পালিয়ে এক কোণায় আশ্রয় নিয়ে সারারাত সেখানে থাকার পর সকালে সুযোগ পেয়ে পালিয়ে চলে আসেন।

মিপ্রুর খবর পাবার পর তার তত্ত্বাবধানকারী স্কুল শিক্ষক হাসপাতালে ফোন করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ১৯ এপ্রিল ২০১১ দুপুরে খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসেন। এ সময় রামগড়-মাটিরাংগা-মানিকছড়ি সড়কে পাহাড়িদের যাতায়াতে নিরাপত্তা না থাকায় তিনি নিজে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে পারেন নি। বর্তমানে তার বাড়িতে রেখে চিকিত্‍সা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

মাথায় আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের ফলে মিপ্রু মারমা এখন শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন। ডাক্তাররা তাকে পরিপূর্ণ বিশ্রাম, নিয়মিত ঔষধ সেবন ও স্বাভাবিক খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মানিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো: এন ইলমাম মিপ্রু মারমাকে চিকিৎসা করেন এবং হাসপাতাল ত্যাগকালে ছাড়পত্রে স্বাক্ষর করেন।


-----------------

courtesy: http://prothom-aloblog.com/posts/10/125468

1 comment:

  1. BD Online News For BD News Lover and all time updare bd news.Just chack this link
    Click for mobile Apps

    ReplyDelete